অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ

প্রবাসীর দিগন্ত | ডেস্ক রিপোর্ট : মার্চ ১১, ২০১৮

সমগ্র অস্ট্রেলিয়ায় আজ নতুন চাকরির ব্যাপক চাহিদা তৈরী হয়েছে। ভালো বেতন, উন্নত কাজের পরিবেশ, চাকরির নিশ্চয়তা, শ্রমিক বান্ধব শ্রম আইন, ক্ষতিপূরণ, স্থায়ী হবার সুযোগ, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা সব কিছু বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া সবসময়ই অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিকট পছন্দের শীর্ষের একটি দেশ।

স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য অস্ট্রেলিয়াযর চেয়ে ভালো কোন দেশ পৃথিবীতে আছে বলে কারও জানা নাই। অস্ট্রেলিয়ায় কাজ, বসবাস ও স্থায়ী হবার প্রচলিত নিয়ম কানুন সম্পর্কে খোঁজ নিতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমাদের জানান, এই সময় অস্ট্রেলিয়ার ডিমান্ড লিস্টে প্রায় ৪৩২ টি পেশার নাম রয়েছে, সুতরাং যাদের যোগ্যতা রয়েছে তারা মাইগ্রেশনের বিভিন্ন সাব-ক্লাসে আবেদন করে পরিবার সহ বসবাস করতে পারেন। জব নিয়ে প্রবেশ করেও অনেকে স্থায়ী নাগরিক হবার সুযোগ পাচ্ছে। সঠিক জব এবং সঠিক টেরিটোরি বেছে নেবার দক্ষতা এই ক্ষেত্রে নাগরিক হবার বিষয়টি ত্বরান্বিত করে। তিনি আরোও বলেন, শুধুমাত্র গত বছর প্রায় ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) স্থায়ী চাকুরীর পদ সৃষ্টি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়।

কয়েক ডজন ভিসা প্রোগ্রাম রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়, তবে আমাদের জন্য মুলত ০৪ ভাগে প্রচলিত ক্যাটাগরি রয়েছে:-
Skilled Migration with PR:
Subclass 189, Skilled Independent Visa:
বিষয়টি সম্পূর্ণ পয়েন্ট এর উপর নির্ভর করে। মোট ৬০ পয়েন্ট প্রয়োজন হয়। পয়েন্ট পাওয়া যায় বয়স, কাজের অভিজ্ঞতা, পড়াশুনা, ভাষার উপর চুড়ান্ত দখলের উপর।
Skilled Nominated 190 Visa:
এই প্রোগ্রামটি অত্যন্ত জনপ্রিয়
Short listed পেশাজীবী হতে হবে।
State or Territory থেকে Sponsorship থাকতে হবে। যা পাওয়া খুব কঠিন কাজ নয়।
Temporary Graduate (Subclass 485):
কারোও যদি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান স্টুডেন্ট ভিসা থাকে বা কমপক্ষে ০২ বছরের মধ্যে পড়াশুনা শেষ করে থাকে, তারা এই কোঠায় আবেদন করতে পারবেন।
মোট দুই ধরনের হয়। গ্রাজুয়েট ওয়ার্ক স্টিম ও পোস্ট গ্রাজুয়েট ওয়ার্ক স্টিম
ভিসার মেয়াদ ১৮ মাস থেকে ০৪ বছর পর্যন্ত হতে পারে। PR এর জন্য আবেদন করা যায়।
Skilled - Recognized Graduate Visa (476).
শুধুমাত্র সদ্য ইন্জিনিয়ারিং পাশ করা ছেলে-মেয়েরা এই কোঠায় আবেদন করতে পারবেন।
বয়স ৩১ বছরের মধ্যে হতে হবে।বিগত ২৪ মাসের মধ্যে পড়াশুনা শেষ করা থাকতে হবে এবং অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী অর্জিত হতে হবে।
EMPLOYER SPONSORSHIP:-
অস্ট্রেলিয়ান কোন চাকরিদাতা যদি আপনাকে স্পন্সর করতে ইচ্ছুক হয় তবে আপনার ভাগ্য খুলে গেল। তবে জোগাড় করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এখানে অনেক ধরনের ভিসা হয়। সঠিক ভিসা খুজে পাওয়ার উপর সব কিছু নির্ভর করে।
কোন ধরনের ভিসার জন্য আপনি উপযুক্ত তা সঠিক ও বিস্তারিত ভাবে জানাটা সবচেয়ে জরুরি। এই বিষয়ে অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ গ্রেণের কোন বিকল্প নাই।
Training and Research visa (407) - Occupational Trainee Scheme: (জনপ্রিয় 457 এর বিকল্প ভিসা)

দেশটির  কর্ম ভিসা ৪৫৭ বিলুপ্তির পর এই ভিসাটি চালু হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এইচএসসি শেষ করেই এই ভিসার জন্য চেষ্টা করতে পারেন। এ ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় এসে দুই বছর পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে বসবাস ও পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে আবারও নবায়ন করা যায়।
 সাবক্লাস ৪০৭ প্রশিক্ষণ বা ট্রেনিং ভিসা।
এই ভিসায় প্রশিক্ষণটি দুইভাবে হতে পারে। সরাসরি একই পেশায় অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করার মাধ্যমে অথবা কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে।
কার্যকরী ইংরেজি ভাষা দক্ষতা (আইইএলটিএস এ ৪.৫) থাকতে হবে।
১৮ বছর বয়সী বা তার ঊর্ধ্বে হতে হবে।
Employer Nomination Scheme (186):
স্থায়ীভাবে পরিবার সহ এই স্কিমে আবেদন করে বসবাস ও কাজ করা যায়।
নাগরিকত্ব লাভ করা সম্ভব।
অস্ট্রেলিয়াতে ০২ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।
Regional Sponsored Migration Scheme (187):
স্কিল অ্যাসেসমেন্ট এর প্রয়োজন হয় না।বয়স ৫০ বছরের নীচে হতে হবে।
চাকুরিদাতার দায়-দায়িত্ব এই ক্ষেত্রে কিছুটা কম।
স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব।
Regional Area থেকে জব অফার এর প্রয়োজন হয়।
পড়াশুনা করার সুযোগ পাওয়া যায়।
Skilled Regional Visa (Subclass 489):
রিজিওনাল এলাকাতে ০২ বছরের পড়াশুনার অভিজ্ঞতা
আই.ই.এল,টি.এস কমপক্ষে 0৬ স্কোর থাকতে হবে।
পড়াশুনার পর রিজিওনাল এলাকায় এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা।

চাকরিদাতার বর্তমান কাজের ঠিকানা, কাজরে ধরন ও অভিজ্ঞতার বছর, পড়াশুনার যোগ্যতা, চাকরির ধরন ও বেতনের উপর পুরো বিষয়টি নির্ভর করে।
PARENT VISA (SUBCLASS 143 OR 173) - AN OFFSHORE APPLICATION:-
পিতামাতার বয়স ৬৫ বছরের নিচে হতে হবে।
তাদের অফেরযোগ্য অর্থ বিনিয়োগ করার সামর্থ থাকতে হবে।
Aged Parents Visa: প্রায় ২৫ বছর সময় লাগে শুধু প্রসেস করতে।
PARTNER MIGRATION
যদি আপনার পার্টনার অস্ট্রেলিয়াযন হন।
সম্পর্কের প্রমান দেখানো খুবই গুরুত্বপুর্ণ।
কাজ করার অনুমতি পাওয়া যায়।
সততা ও দক্ষতার কোন বিকল্প নাই। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরন করলে ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও কোন জটিলতা তৈরি হয় না। অষ্ট্রেলিয়ান ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে দক্ষতা, সততা ও সুনামের সাথে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। তার মধ্যে ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেড অন্যতম। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদের নিকট অস্ট্রেলিয়া মাইগ্রেশনের ভবিষ্যত সম্পর্কে কিছু বলতে বলা হলে, তিনি বলেন চলতি বছর প্রচুর দক্ষ লোকের প্রয়োজন পড়বে। আমরা যদি সঠিকভাবে ও যোগ্য লোক বাছাই করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারি তবে সবাইকে পিছনে ফেলে আমরাই অস্ট্রেলিয়ার শ্রম বাজারটি দখল করতে পারবো। বাংলাদেশিদের সেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে সবাইকে প্রতারকদের হাত থেকে সাবধানে চলার জন্য তিনি উপদেশ দেন। তিনি আরও বলেন যেহেতু বাংলাদেশে বিনিয়োগের একটি চমৎকার পরিবেশ বিদ্যমান আছে, তাই সকল প্রবাসী ভাইদের এই সময়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে দেশের চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নিবার উদাত্ত আহবান জানান।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: মার্চ ১১, ২০১৮

প্রতিবেদক: প্রবাসীর দিগন্ত

সর্বমোট পড়েছেন: 649 জন

মন্তব্য: 0 টি