অারব অামিরাতের সাথে বাংলাদেশের শ্রমিক ভিসা বন্ধ থাকার কথা নয়: মোহাম্মদ ইসমাইল সি অাই পি

মো নূরুল্লাহ খান শাজাহান | নিজস্ব প্রতিবেদক : জুন ১০, ২০১৮

সংযুক্ত অারব অামিরাতের অারেক উদিয়মান শিল্প উদ্যোক্তা ২০১৮ সালের বাংলাদেশ সরকারের গেজেটে অামিরাত থেকে ঘোষিত কমার্শিয়াল ইনপটেন্ট পারসন (সি অাই পি) মোহাম্মদ ইসমাইল বলেছেন তৃতীয় পক্ষের কোন রকম দূরবীসন্ধি না থাকলে বন্ধু রাষ্ট্র অামিরাতের সাথে বাংলাদেশী ভিসা বন্ধ থাকার কথা নয়।

তিনি বলেন বাংলাদেশীদের ভিসা উম্মুক্ত করে দিলে অামিরাতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা অামিরাতের শক্তিশালী অর্থনীতিকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলত পারত। তিনি বলেন অামিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশের যে বিশাল জনগোষ্ঠি রয়েছে তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির পাশা পাশি অামিরাতের অর্থনীতিতে ব্যাপক গতিশীলতা এনেছে। তবে কোন তৃতীয় রাষ্ট্রীয় পক্ষের ষড়যন্ত্রের পরিপ্রেক্ষিতে হয়ত অাজ অামাদের ভিসা বন্ধের মত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে এগোতে হচ্ছে

। সংযুক্ত অারব অামিরাতে বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইসমাইল ২০১৮ সালের গেজেটে গর্বিত( সি অাই পি) নির্বাচিত হয়ে রেমিটেন্স সৈনিক হিসেবে বাংলাদেশ সরকার কতৃক সম্মানিত হয়েছেন। বিন্দু থেকে উঠে অাসা এ ব্যবসায়ী খুব অল্প সময়ে নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত বিজনেস ম্যান হিসেবে অামিরাতে নিজের পরিচিতি তুলে ধরতে পেরেছেন।

অামিরাতের অাবায়া (বোরকা)শিল্পে প্রতিষ্ঠিত যে ক জন ব্যবসায়ী রয়েছে তাদের মধ্যে মোহা্ম্মদ ইসমাইল হচ্ছে এক ব্রান্ডিং নাম। ব্যবসায়িক সফলতা ও পরিচিতি তাকে এনে দিয়েছে অামিরাতে অবস্থানরত শীর্ষ ব্যবসায়ীদের কাতারে। অাবায়া শিল্পে তার প্রতিষ্ঠানের কারুকাজ সত্যিকার অ্রর্থে বিপ্লব ঘঠিয়েছে অামিরাত অঞ্চলে। কক্সবাজারের কৃতি সন্তান মোহাম্মদ ইসমাইল অামিরাতে অাসেন ২০০৪ সালে। ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত বেতেল এহবা নামক একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন তিনি।

২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন দুবাইয়ে অাধুনিক ডিজাইনের প্রবর্তক প্রতিষ্ঠান স্মার্ট লেডি। সেই থেকে অার ফিরে তাকাতে হয়নি মোহাম্মদ ইসমাইলকে। বুদ্ধি, বিচক্ষনতা,সততা অার প্ররিশ্রমে ইসমাইলকে করেছে সোনায় সোহাগা। ভাগ্য বিধাতাকে সাথে নিয়ে ইসমাইল পর পর একে একে গড়ে তুলেন ১০ টি প্রতিষ্ঠান।

দুবাইয়ের বিখ্যাত আবায়া মার্কেট অাবুহাইয়েল সেন্টার সহ অাবায়া মলে তার প্রতিষ্ঠান গুলু একাধিক নামে পরিচালিত হয়ে অাসছে। কিন্তু পরে ভিসা বন্ধের মত জটিল সমিকরনে শ্রমিকের অভাবে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমিয়ে অানতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে ৭ টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে তার ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। শ্রমিক সংকটে ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্বেও ব্যবসা বৃদ্ধি করতে পারছেনা বলে তিনি জানান।

১৯৭৯ সালে মোহাম্মদ ইসমাইল কক্সবাজার জেলার বড় বাজার এলাকায় জন্মগ্রহন করেন। পিতা মৃত হাজী ওলামিয়া, মাতা মৃত সালমা খাতুনের ৪র্থ সন্তান মোহাম্মদ ইসমাইল পড়াশুনা করেন স্থানীয় ইলিয়াস মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। পড়াশুনার পাঠ চুকিয়ে ২৪ বছর বয়সে ইসমাইল অামিরাতে অাসেন। ইসমাইল জানায় তার প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১২০ জন। ভিসা বন্ধের কারনে বর্তমানে সে সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭০ জনে। এ অবস্থা পরিবর্তনে বাংলাদেশ সরকারের দক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা জরুরী বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন অামি যদি টাকা ইনকাম করতে না পারি, ব্যবসা চালিয়ে যেতে না পারি, তাহলে অামার সি অাই পি মর্যাদা কোন কাজে অাসবে বলে মনে হয়না। মোহাম্মদ ইসমাইল ঢাকা এবং চট্টগ্রাম ইমিগ্রেশনে হয়রানী ও চাদাবাজী বন্ধের দাবী জানিয়ে সরকারের দৃষ্টি অাকর্ষন করেন। ইসমাইল বাংলাদেশে চট্টগ্রাম সহ কক্সবাজারে হসপিটালিটি ও রিয়েল স্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন ব্যাপকভাবে। তিনি প্রবাসীদের বিনিয়োগ যেন নিরাপদ হয় সেদিখে সরকারকে নজরদারী করার অাহবান জানান।

কক্সবাজার জেলার গর্ব মোহা্ম্মদ ইসমাইল দুবাইতে সেচ্চাসেবক লীগের প্রধান উপদেষ্ঠার পাশা পাশী দেশে বিদেশে একাধিক সেচ্চাসেবী সংগঠনের সাথে জরিত রয়েছেন। কক্সবাজার জেলার যেকোন দূর্যোগে তার সাহায্যের হাত প্রসারিত করে হাজার হাজার দূর্দশা গ্রস্থ মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন এই প্রবাসী ব্যবসায়ী। মোহাম্মদ ইসমাইলের মত রেমিটেন্স যুদ্ধারা লড়াকু সৈনিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দেশের সমৃদ্ধি অানায়নে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখবেন সেটায় প্রত্যাশা সকলের।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: জুন ১০, ২০১৮

সর্বমোট পড়েছেন: 1211 জন

মন্তব্য: 0 টি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ