আন্দোলন বন্ধে একাধিক বিকল্প নিয়ে এগোচ্ছে সরকার

প্রবাসীরদিগন্ত ডেস্ক : অগাস্ট ৫, ২০১৮

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। এই আন্দোলনে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের নেয়া বেশকিছু পদক্ষেপ দৃশ্যত কোনো কাজে আসেনি। এখনো রাজপথে শিক্ষার্থীরা। তাই নতুন বিকল্প নিয়ে এগোনোর কথা ভাবছে সরকার।

government to stop student movement

মূলত সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছে সরকার। যদিও আন্দোলন শুরুর পর শনিবার রাজধানীর জিগাতলায় সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের এমইএস বাস স্ট্যান্ডে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ঘটনার পর থেকেই রাজপথে নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে সে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়ে তাদের ফিরিয়ে নিতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পরও মিলছে না সুফল। সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি এবং দাবি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ছাড়া রাজপথ ছাড়তে নারাজ শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ শনিবারের সংঘর্ষের পর মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রোববার থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠবে সড়ক নিরাপত্তা আইন।

সরকার এখন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক-এই তিন উপায়ের সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বিকল্প খুঁজছে। সামনে নির্বাচন থাকায় শিশু-কিশোরদের ওপর বল প্রয়োগ না করে সমাধান চাইছে ক্ষমতাসীনরা।

সরকারের একাধিক মন্ত্রীর মত, একদিকে নির্বাচনের বছর, অন্যদিকে ছাত্রদের ওপর বল প্রয়োগের বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাই সরকার অনেক বিকল্প মাথায় নিয়ে এগোচ্ছে। বিষয়টি এখন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

তারা বলেন, এ আন্দোলন চলতে দেয়া যাবে না। আবার জোর করে থামানো ঝুঁকিপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে সবাই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সংকেত পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষায় আছি। আশা রাখি দু-এক দিনের মধ্যে সমাধান আসবে।

ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে কোনো দিক-নির্দেশনা আসতে পারে।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনিক বিভিন্ন উদ্যোগ চলছে। সব জেলা প্রশাসককে শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে বসতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফেরাতে শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সহযোগিতা চাওয়া হবে।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: অগাস্ট ৫, ২০১৮

সর্বমোট পড়েছেন: 544 জন

মন্তব্য: 0 টি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ