কেরানীহাট মাদরাসার এক ইঞ্চি ভূমিও কেউ দখল করতে পারবে না: ডাঃ মিনহাজ

মোঃ জাহেদুল ইসলাম | নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই ৩১, ২০১৮

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক কেরানীহাট জামেউল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার সভাপতি মনোনীত হওয়ায় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ আ.ম.ম মিনহাজুর রহমানকে সংবর্ধনা দিয়েছে মাদরাসার গভর্নিং বডি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। মাদরাসা মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবর্ধনা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি আব্দুল হক মিয়া। মাদরাসার ইংরেজি প্রভাষক জামশেদুল আলম সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা পরিচালনা করেন। মানপত্র পাঠ করেন সহকারি শিক্ষক জিয়াউল করিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ আ.ম.ম মিনহাজুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার মাদরাসা বান্ধব সরকার। তা যদি না হতো তবে এ সরকার ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতো না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ মাদরাসা অবহেলিত ছিল। এখন সময় এসেছে এ মাদরাসার রূপ পাল্টে দেয়ার। শিগগিরই মাদরাসায় নতুন যে ভবন তৈরি হচ্ছে সেটিকে আরো উন্নত করার এবং নতুন আরো একটি বহুতল একাডেমিক ভবন করার কথা ব্যক্ত করে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারির আগে একটি শহীদ মিনার নির্মাণের ঘোষণা দেন।

মাদরাসার ভূমি দখলে নিতে ভূমিদস্যুরা যে তৎপরতা শুরু করেছে তা সফল হবেনা জানিয়ে ডাঃ মিনহাজ বলেন, 'আমি সভাপতি থাকাকালীন মাদরাসার কেউ কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা। এমনকি এক ইঞ্চি ভূমিও কেউ দখল করতে পারবেনা। ভূমিদস্যুদের সর্বাত্মক প্রতিহত করা হবে।'

তিনি বলেন, কথিত স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি দাপট দেখিয়ে মাদরাসাকে ধ্বংস করে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার মাদরাসার ক্ষতিকারকদের ছাড় না দিতে বলেছেন। সেই হিসেবে মাদরাসার বিরুদ্ধে কেউ যদি কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দুঃসাহস দেখায় তবে তার দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় এ নেতা সকলের কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, সংবর্ধনার জন্য নয়, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ এবং মানুষের প্রতি ভালবাসা দেখিয়ে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে এ মাদরাসাকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি অন্যতম মাদরাসা হিসেবে রূপান্তর করতে চাই। সর্বোপরি তিনি এ মাদরাসাকে কামিল (এম.এ) শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেন।

সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ডাঃ মিনহাজের গাড়ি মাদরাসার ফটকে এসে পৌঁছলে মাদরাসায় প্রবেশের রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় হাত উঁচিয়ে ডাক্তার মিনহাজ শুভেচ্ছার জবাব দেন।

এরপর অনুষ্ঠান মঞ্চে গভর্নিং বডি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সকলের পক্ষ থেকে দেয়া হয় মানপত্র ও ক্রেস্ট।

এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মোঃ আরিফুর রহমান চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মফিজুর রহমান মাদানী, আরবী প্রভাষক আব্দুল্লাহ আফলাতুন, মাওলানা নুরুল হক সিরাজী, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফাজিল শ্রেণির মোঃ জাহেদুল ইসলাম, অভিভাবকবৃন্দের পক্ষ থেকে মোঃ ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেঁওচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ ইউনুস, কেরানীহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি, সিরাজ মাস্টার, মোঃ নুরুন্নবী, ছদাহা কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি মোঃ নাসির, সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম বাবরসহ অনেকে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ দোয়া করে মোনাজাত করেন মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মফিজুর রহমান মাদানী। সবশেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০১৮

সর্বমোট পড়েছেন: 205 জন

মন্তব্য: 0 টি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ