গোপন আঁতাত করতে আওয়ামী লীগ সুইজারল্যান্ড-সিঙ্গাপুর দৌড়ঝাঁপ করছে -রিজভী

প্রবাসীরদিগন্ত ডেস্ক : মার্চ ২৬, ২০১৮

জনসমর্থনহীন হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে আওয়ামী লীগ গোপন আঁতাতের জন্য সুইজারল্যান্ড থেকে সিঙ্গাপুর দৌড়ঝাঁপ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল (রোববার) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন-‘বিদেশেীদের কাছে দেন-দরবার করে লাভ হবে না। অথচ আপনারা নিজেদের জনসমর্থনহীন ক্ষমতা ধরে রাখতে গোপন আঁতাতের জন্য সুইজারল্যান্ড থেকে সিঙ্গাপুর দৌড়ঝাঁপ করছেন। উনি (ওবায়দুল কাদের) বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে নির্বাচন করা বিশে^র কোথাও নজির নেই।’ প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে নির্বাচনের নজির আপনারাই সৃষ্টি করেছেন, এটি কী ভুলে গেছেন? ঐ সময়ে ১৭৩ দিন হরতাল দিয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার নজির আপনারাই স্থাপন করেছিলেন। গান পাওডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরে কী অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবের কাছে জানতে চাই-পৃথিবীর কোন দেশে সংসদ ভেঙ্গে না দিয়ে নির্বাচন হয়? এই নজির কী আছে পৃথিবীতে কোথাও? আপনারা এবং আপনাদের দোসর এরশাদই জাতীয় সংসদ বহাল রাখার কথা বলছেন। এরশাদ বলবেন এজন্য যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে হাত খরচা পান। আর আপনি বলছেন চাকরি রক্ষার্থে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, পুলিশী প্রহরায় গণতন্ত্রকে জিম্মি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের তাল-বেতালের কথাবার্তায় মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। বরং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বৈরাচার তকমা পেয়ে এখন আপনাদের মুখে গণতন্ত্র ও জনমতের কথায় অবলা প্রাণীও হেসে ওঠে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন, জালভোট ও কলঙ্কিত নির্বাচনের স্বীকৃতি হলো বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই শুধু নয় তাদের সমর্থকরাও স্বৈরাচারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে লজ্জায় ডুবে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-আবারও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার নীল নকশা কোনদিনই বাস্তবায়িত হতে দেবে না জনগণ। তিনি বলেন, দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী রেখে এখন এক গভীর মাষ্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে নির্বাচনী ঢেউ তোলার অপচেষ্টা চলছে। কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট নির্বাচনী ঢেউয়ে গা ভাসাবে না বিএনপি ও জনগণ। অবশ্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নি:শর্ত মুক্তি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিশ্চিত করে বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। আর সেই নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। আর তা না হলে আন্তর্জাতিক স্বৈরাচারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই অবৈধ সরকারের পতন হবে ভয়াবহ। 
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাকে দুরভিসন্ধি উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বেগম জিয়াকে বন্দী করে রেখে পথের কাঁটা সরানোর দুরভিসন্ধির কথা এখন মানুষের মুখে মুখে। মানুষ বলছে-বেগম জিয়াকে বন্দী করার অর্থ গণতন্ত্রকেই বন্দী করে রাখা। বেগম খালেদা জিয়াকে অসত্য ও বানোয়াট মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর প্রধানমন্ত্রীর উল্লাসে মনে হয়েছে তিনিই বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে আদালতকে বাধ্য করেছেন। দীর্ঘদিন প্রতিশোধের পথে হাঁটতে হাঁটতে আদালতকে ব্যবহার করে তিনি সার্থক হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে। তাই প্রধানমন্ত্রীর উল্লাস প্রতিশোধ চরিতার্থ করতে প্রশান্তির উল্লাস। মনে হয়েছে বহুদিন তিনি শিকারের অপেক্ষায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বন্য বিচার সার্থক করেছেন আওয়ামী রঙে রজ্ঞিত আদালত দ্বারা। কিন্তু তাতে বেগম জিয়া মানুষের কাছে আরও বেশী জনপ্রিয় হয়েছেন, তাঁর ওপর সরকারের দুর্বিষহ নির্যাতনে মানুষ ক্ষোভে-ক্রোধে অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে। 
খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আপিলের বিষয়ে তিনি বলেন, দুদক চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর মানস পুত্র। সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদককে ব্যবহার করছে। প্রধানমন্ত্রী যা চাইছেন দুদক তাই করছে। কিন্তু জনতার আদালতে, আইন ও নৈতিকতার আদালতে খালেদা জিয়া নির্দোষ। এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাসির, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, আব্দুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: মার্চ ২৬, ২০১৮

প্রতিবেদক:

সর্বমোট পড়েছেন: 308 জন

মন্তব্য: 0 টি

বিজ্ঞাপন জন্য স্থান
(আপনার বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন)