ছেলের কবরের সামনে কাঁদলেন খালেদা

প্রবাসীর দিগন্ত | নিজস্ব প্রতিবেদক : জানুয়ারী ২৫, ২০১৮

ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে একপর্যায়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি। এতে সেখানকার পুরো পরিবেশ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে।

বুধবার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবর জিয়ারত করতে যান বিএনপি প্রধান।

চেয়ারে বসে প্রায় আধা ঘণ্টা কোরআন শরিফ পড়েন। কবর জিয়ারত শেষে ছেলের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। একপর্যায়ে কেঁদেও ফেলেন তিনি।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাদেরকেও কাঁদতে দেখা যায়। খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কোকোর বড় খালা, এক মামা, দুই মামী প্রমুখ।

দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আমানউল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন, শ্যামা ওবায়েদ, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, হেলাল খান, নুরে আরা সাফা, আফরোজা আব্বাস, কাজী আবুল বাশার, মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, আহসানউল্লাহ হাসান, শফিউল বারী বাবু, সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এসএম জাহাঙ্গীর, মামুন হাসান, রাজীব আহসান প্রমূখ।

কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকাল থেকেই কবরের পাশে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বাদ মাগরিব বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসভবনে ফাতেহা পাঠ, কোরআন খতম এবং বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এর আগে সকালে আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে কবরস্থানের বাইরে ‘আরাফাত রহমান কোকো যুব ক্রীড়া পরিষদ’ ও ‘আরাফাত রহমান স্মৃতি পরিষদের’ যৌথ উদ্যোগে ‍গরিব ও দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বনানী কবরস্থানে তার কবর জিয়ারত করেন। এছাড়া যুবদল, ছাত্রদল, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দলসহ বিএনপির সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারাও কোকোর কবর জিয়ারত করে দোয়া মোনাজাত করেন। 

১৯৭০ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলন দানা বেঁধে উঠছিল, ঠিক ওই সময়ে কুমিল্লা সেনানিবাসে আরাফাত রহমান কোকো জন্ম নেন। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনানিবাসের বাড়ি থেকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন কোকো।

২০০৮ সালের ১৭ জুলাই জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরদিন চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যান তিনি। স্ত্রী শর্মিলা রহমান, দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে নিয়ে সেখান থেকে মালয়েশিয়ায় চলে যান কোকো। সাত বছর ধরে মালয়েশিয়ায় থাকা কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: জানুয়ারী ২৫, ২০১৮

প্রতিবেদক: প্রবাসীর দিগন্ত

সর্বমোট পড়েছেন: 496 জন

মন্তব্য: 0 টি