জেনে নিন খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু সহজ উপায়

প্রবাসীর দিগন্ত | লাইফস্টাইল ডেস্ক : জুলাই ২৯, ২০১৮

খুশকির বিড়ম্বনায় কমবেশি সবাইকে পড়তে হয় আর দশটি অন্য রোগের মত এটিও একটি রোগ, তবে অন্য রোগের মত এটি আপনাকে অত বেশি না ভুগালেও এর বিড়াম্বনা কিন্তু কম নয়।

খুশকি কেন হয়?

মাথার ত্বকে শুকনো বা মৃত কোষ যখন অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায় তখনি তা উপরে ভেসে। মাথার চুল হাত দিয়ে ঝাড়তে গেলে বা চিরুনি দিয়ে আঁচড়ালে সাদা খসির মত পরতে থাকে যা খালি চোখেই দেখা যায় মাথায় বা পড়ে থাকা জামা কাপরে। কিন্তু যখন তা স্বাভাবিক পর্যায় থাকে তখন তা এমনি এমনি পড়ে যা সহজে চোখে পরে না। অনেক সময় অতিরিক্ত খুশকির ফলে মাথার ত্বক বা তালুতে তেলের মত পিচ্ছিল হয়ে যায় 

খুশকি হওয়ার কারণ:

  • গবেষকরা বলেন, ফাঙ্গাল ইনফেকশনের কারনে খুশকির জন্ম হয়।
  • বিউটিশিয়ানরা বলেন, ভালো শ্যাম্পু ব্যবহার না করলে বা শ্যাম্পু করার পর চুল ভালো করে না ধুলে অথবা বেশি বেশি মাথায় কন্ডিশনার লাগালে খুশকির সমস্যা হতে পারে। অতিরিক্ত কন্ডিশনার ব্যবহারের ফলে মাথার কোষ মরে গিয়ে সেখানে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করে।
  • অনেকেই আবার বলে থাকেন, মাথার ত্বক অতি শুষ্ক বা অতি তৈলাক্ত হওয়ার কারণে এবং নিয়ম কানুন মেনে না চলায় খুশকি বৃদ্ধি পায় যা পিছু ছাড়ে না কখনই।
  • অনেকেই আছেন যাঁরা নিয়মিত মাথার চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন না, অথবা নিয়মিত গোসলও করেন না তাদের বেশি ঘটে থাকে। নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার না করলে মাথায় খুশকি হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আবার শ্যাম্পু লাগিয়ে ঠিক মত পানি দিয়ে মাথা না ধলেও এমনটা হতে পারে।
  • মাথায় কখনই গরম পানি ব্যবহার করা উচিত না এতে মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে পরে কোষগুলো মরে যায়। যার ফলেও খুশকির সৃষ্টি হয় ।
  • কিছু মানুষ স্ক্যাল্প সোরিয়াসিসে ভোগেন৷ সোরিয়াসিসের কারণেই তাঁদের মাথার ত্বকে অতিরিক্ত পরিমাণে কোষ তৈরি হয়, আঁশের মতো চামড়া উঠতে আরম্ভ করে৷ 

 কীভাবে মুক্তি পাবেন খুশকির হাত থেকে?

কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে মুক্তি পেতে পারেন বিরক্তিকর খুশকি থেকে, চলুন জেনে নেই খুশকি দূর করার কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি:

-: নিমপাতা :-

নিমপাতার গুনের কথা আর নতুন করে কি বলব। অনেকেরই জানা আছে নিমপাতার নানা ঔষধি গুনের কথা। আপনার মাথায় খুশকির প্রকোপ কমাতে নিমপাতা দারুণ কাজে দিতে পারে। কিছু নিমপাতা পাটায় বেটে নিন বা কোন উপায়ে পেস্টের মত বানিয়ে নিন। গোসলের পূর্বে মাথায় ভালো করে লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ পরে মাত্র এক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলুন। যদি রাতে ঘুমনোর আগে লাগিয়ে পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে পারেন তাহলেও অনেক উপকার পাবেন। এখন হয়তো বলবেন পেস্ট বানানো বা লাগানোর তো টাইম নেই  তো কি হয়েছে এক মুঠো নিমপাতা নিয়ে গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এভাবে সারারাত রেখে পরদিন গোসলের পর ঐ পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন, তাতেও কিন্তু ভালো ফল মিলবে। ফাঙ্গাসের কারণে আপনার মাথায় চুলকানি থাকলেও তা নিমিষেই শেষ করে দেবে এই নিমের নির্যাস।

 

-: লেবুর রস :-

লেবুর রসে থাকা অ্যাসিড ফাঙ্গাস বিনষ্ট করতে খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাই লেবুর রস নিয়ে সেটা মাথায় লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন এরপর ভালো ভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন। চাইলে এক কাপ পানির সাথে লেবুর রস আর শ্যাম্পু মিশিয়ে লাগাতে পারেন ভালো ফল পাওয়া যাবে। কমলার খোসা শুকিয়ে ব্লেন্ড করে লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর সেই পেস্ট মাথায় লাগিয়ে এক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। শুধু কি খুশকিই যাবে পাশাপাশি মাথায় থাকা সমস্ত দুর্গন্ধ দূর হবে।

 

-: নারকেল তেল আর টি ট্রি অয়েল :-

নারকেল তেলেরও কিন্তু ফাঙ্গাস তাড়ানোর আর চুলকে খুশকিমুক্ত রাখার ক্ষমতা আছে! 5 টেবিলচামচ নারকেল তেলের সঙ্গে 10 ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন৷ তার পর মাথার তালুতে ভালো করে মাসাজ করে নিন এই মিশ্রণ৷ পরদিন সকালে মাইল্ড কোনও শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে পারেন৷ হাতে সময় না থাকলে অন্তত আধ ঘণ্টা এই মিশ্রণ মাথায় লাগিয়ে রাখুন৷ টি ট্রি অয়েল বজায় রাখবে চুলের প্রাকৃতিক ঝলমলেভাব৷

 

-: টক দই :-

আপনার গোসলের এক ঘণ্টা পূর্বে একটু টক দই নিয়ে মাস্কের মতো মাথার তালুতে এবং চুলে এই প্রলেপটা ভালো করে লাগিয়ে রাখুন। এরপর ভালো করে চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড আপনার চুলকে করবে খুশকি মুক্ত নরম, কোমল ও উজ্জ্বল।

 

-: বেকিং সোডা :-

ফাঙ্গাস কমাতে বেকিং সোডাও খুব কার্যকর৷ স্নানের সময় চুল ভিজিয়ে নিন৷ তার পর মাথার তালুতে ও চুলে বেকিং সোডা লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন৷ এটি চুলের উপর সেই অর্থে কোনও ঋণাত্মক প্রভাব ফেলে না, উলটে মাথার ত্বকের বাড়তি তেল শুষে নেয়৷ প্রথমদিকে চুল একটু শুষ্ক লাগলেও ঘাবড়াবেন না৷ কিছুদিনের মধ্যেই আপনার মাথার তালু স্বাভাবিক পরিমাণে তেল তৈরি করতে আরম্ভ করবে৷

 

উল্লেখিত পদ্ধতি অনুসরণ করে মুক্তি পেতে পারেন বিরক্তিকর খুশকি থেকে, এবং মনে রাখবেন খুশকি একেবারে গোড়াতেই নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি৷ কারণ একবার বাড়তে আরম্ভ করতে তার নিরাময় কঠিন হয়ে পড়ে৷ কেন খুশকি হচ্ছে, সেটা জানার চেষ্টা করুন৷

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০১৮

সর্বমোট পড়েছেন: 389 জন

মন্তব্য: 0 টি