টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ

মোঃ জাহেদুল ইসলাম | নিজস্ব প্রতিবেদক : জুন ১২, ২০১৮

৯ জুন শনিবার থেকে অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। পানিবন্দি এসব মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শঙ্খ নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ, চরতি, নলুয়া, কেঁওচিয়া, বাজালিয়া, নলুয়া, ঢেমশা, পুরানগড়, কালিয়াইশ ও ধর্মপুর ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নের ফসলি জমি, পুকুর ও সড়ক এখন পানির নিচে।

এদিকে উপজেলার বাজালিয়ার বড়দুয়ারা এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত বন্ধ ছিল কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কে যান চলাচল। এতে সড়কের দু’পাশে বহু যানবাহন আটকে পড়ে। আটকে যাওয়া গাড়ির যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। অনেকে রিকশা-ভ্যান যুগে সড়ক পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো চেষ্টা করে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিন জানান, বড়দুয়ারা এলাকায় বন্যার পানি বেড়ে সড়ক তলিয়ে গেছে। অন্তত ৩ ফুট পানিতে সড়ক ডুবে গেছে। এতে সড়কের উভয় পাশে অনেক গাড়ি আটকে গেছে।

ছদাহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোসাদ হোসাইন চৌধুরী জানান, উত্তর ছদাহা এলাকায় হাঙ্গরখাল থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। ফলে বন্যার পানি প্রবেশ করায় দস্তিদারহাট ও কেঁওচিয়া এলাকার বাড়ি-ঘর তলিয়ে গেছে। প্রতি বছর একই ঘটনা ঘটছে। এখানে বালু মহালটি ইজারা দেয়ায় এই এলাকার শত শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির প্রেক্ষিতে বালু মহালটি ইজারা ঘোষণা না করার জন্য গত কয়েক বছর ধরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি বলে জানান মোসাদ চৌধুরী।

আমিলাইশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইউনিয়নের ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, “মধ্যরাতে বাজালিয়া এলাকায় পানি উঠায় বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে কিছু কিছু বড় গাড়ি চলাচল করলেও ছোট যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় বিকেলের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।”

এদিকে ভারী বর্ষণ ও বন্যা উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: জুন ১২, ২০১৮

সর্বমোট পড়েছেন: 338 জন

মন্তব্য: 0 টি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ