দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্রের কার্যক্রম

সোলেমান আহমেদ মানিক | নিজস্ব প্রতিবেদক : মে ১৪, ২০১৮

দীর্ঘ প্রতিক্ষায় অবসান শেষে চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে নিলাম ডাকের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে চায়ের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্র যাত্রা শুরু হয়েছে। ১৮৫৭সালে সিলেটে চা উৎপাদন শুরুর প্রায় দেড়শত বছর পর সিলেটের চা সিলেটেই নিলাম হচ্ছে। আর এ চা নিলাম কার্যক্রম নিয়ে আনন্দের শেষ নেই মৌলভীবাজারতথা সিলেট বাসীর। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল খান টাওয়ারে দেশের ২য় চা নিলাম কেন্দ্রে এ চা নিলাম কার্যক্রম শুরুর মধ্যদিয়ে পুরণ হলো সিলেটবাসীর দীর্ঘ দিনের আশা আকাঙ্খা। আর এর মধ্যদিয়ে বাস্তবায়িত হলো প্রধানমন্ত্রীর সিলেটবাসীকে দেয়া আরও একটি প্রতিশ্রুতি। ইতিমধ্যে ব্রোকারেজ হাউজ গুলো চায়ের গুনগত মান আস্বাধন করে প্রায় সাড়ে ৫লক্ষ কেজি চা নিলামে উত্তোলন করেছেন। আর এর ফলে ভালো মানের চা বিক্রির পাশাপাশি এতে বছরে প্রায় দুইশত কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন টি প্লান্টার্স এন্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আহবায়ক ড. এ কে মোমেন। এ নিলামে অংশ নিয়েছেন দেশের ৭টি ব্রোকারেজ হাউজ ও শতাধিক বিডার। তারা নিলাম থেকে লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। এর জন্য বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ ইতিমধ্যে স্থাপন করেছেন ওয়ার হাউজ। যেখান ইতিমধ্যেই তারা মজুদ করেছেন চা। প্রায় শতাধিক চা বাগান পরিবেষ্ঠিত দুটিপাতা একটি কুড়ির দেশ মৌলভীবাজার জেলার বাণিজ্যিক ও পর্যটননগরী খ্যাত শ্রীমঙ্গল চায়ের রাজধানী হিসাবে আন্তজাতিক ভাবে সমাদিত। ফলে দেশের উতপাদিত চায়ের নিলাম এতদিন বন্দর নগরী চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত সময়ে শ্রীমঙ্গলসহ সিলেটের একাধিক জনসভায় সেখানে চা নিলাম কেন্দ্র চালুর আশ্বাস দিয়ে ছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষীর অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ড চায়ের নিলাম ডাকের মধ্য দিয়ে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গলে চায়ের নিলাম আয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান টি প্লান্টার্স এন্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর পরিচালনায় আনুষ্ঠানিক ভাবে দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্রের প্রথম আন্তর্জাতিক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি আগামী ২৬ জুন ও ১৭ জুলাই চায়ের আরো দুটি আন্তর্জাতিক নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এই তিনটি নিলামের পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেশের দ্বিতীয় নিলাম কেন্দ্রের পরবর্তী কার্যক্রম স¤পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে চা বোর্ড এমনটাই জানিয়েছেন এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব জহর তরফদার। এদিকে দেশে প্রতি বছর গড়ে ৭০ মিলিয়ন কেজি চা পাতা উতপাদিত চায়ের সিংভাগ উতপাদিত হয় মৌলভীবাজার জেলায়। তাদের দীর্ঘদিনের দাবী ও প্রতীক্ষার অবসান হওয়ায় সেখানকার প্রায় সাড়ে চার লাখ চা শ্রমিক জনগোষ্ঠি এবং আন্তজাতিক ভাবে পরিচিত অধিকাংশ চা কো¤পানীর কর্মকর্তা কর্মচারী ছাড়াও চা বিক্রির জন্য অনুমোদিত ব্রোকার্স হাউস, স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজসহ খুশী সেখানকার সাধারন মানুষ এমনটা জানালেন চা নিলাম কেন্দ্র বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি শেখ লুৎফুর রহমান। এদিকে চাবাগানের কেন্দ্রস্থল শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র চালু হওয়ায় অনেক সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। তাছাড়া ইতোপূর্বে শ্রীমঙ্গল থেকে চা নিয়ে চট্টগ্রামে নিলাম করতে পায় ১৫ থেকে ২০ দিন সময় চলে যেত। কিন্তু এ নিলাম কেন্দ্র চালু হওয়াতে ফ্যাক্টরি থেকে চা নিলামে যেতে মাত্র ১ সপ্তাহ সময় লাগবে জানান বাংলাদেশীয় চা সংসদ সিলেট ব্যাঞ্চ চেয়ারম্যান জি এম শিবলী । এদিকে নিলামের জন্য আগত বায়ার’রা থাকার জন্য ফাইভস্টার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের উন্নতমানের হোটেল-রিসোর্ট গড়ে উঠায় শ্রীমঙ্গলে দেশী বিদেশীরাও এসে এখানে নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তাছড়া এই নিলাম কেন্দ্র দেশের চা শিল্পের উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নিলামের সাথে সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্টান ও ব্যক্তিবর্গ।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: মে ১৪, ২০১৮

প্রতিবেদক: সোলেমান আহমেদ মানিক

সর্বমোট পড়েছেন: 85 জন

মন্তব্য: 0 টি