বিদেশে স্কলারশিপ পেতে হলে এখনই সময় ( পর্ব ১ )

মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা | বিশেষ প্রতিবেদক : এপ্রিল ১৭, ২০১৮

বিদেশে পড়াশোনা সব সময়ই দারুন কিছু। আর সেই সাথে যদি থাকে স্কলারশিপ কিংবা টিউশন ওয়েভার জাতীয় কিছু, তবে তা শিক্ষা ক্ষেত্রে দারুন অর্জন হয়ে থাকে। সাথে অর্থনৈতিক ভাবে নির্ভার হয়ে পড়াশোনার সুযোগ তো থাকেই, অর্থাৎ দেখা যায় একটা স্কলারশিপ বহুভাবে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহনে কিংবা ক্যারিয়ার গঠনে দারুন কিছু অবদান রাখতে পারে। তাই আজকে আমি স্কলারশিপ নিয়েই কিছু বলবো। আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে যে স্কলারশিপ এর ক্রাইটেরিয়া বা একটা স্কলারশিপ ঠিক কি কি চায়, একটা ছাত্রকে তার শিক্ষাজীবনের শুরুতেই যেমন এইচএসসি পাসের পর পর কিংবা ব্যাচেলর লাইফের শুরু থেকেই জেনে রাখা উচিত। এটা আসলে জীবনের সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন। যেমন কর্পোরেট লাইফে ঢুকতে ইচ্ছুক প্রত্যেক কেই অবশ্যই এক্সিকিউটিভ লেভেলের চাকুরীতে কি কি দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করতে হয় (যা সাধারনত জব সার্কুলারেই দেয়া থাকে) জেনে রাখা উচিত। তাতে শিক্ষা জীবন থেকেই চাকুরীজীবনের একটা ইমেজ এবং মাইন্ড সেটাপ তৈরি হতে থাকে যা পরবর্তী তে ক্যারিয়ার গঠন সহজ করে দেয়। একইভাবে বাইরে পড়তে ইচ্ছুক প্রত্যেকেরই উচিত বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ সার্কুলারে নিয়মিত চোখ রাখা। আমার মনে আছে আমি প্রথম কমনওয়েলথ স্কলারশিপের সার্কুলার দেখেছিলাম আমার অনার্স অধ্যয়নের একেবারে শেষ বর্ষে এসে। প্রথম দেখার পরই আমার অনুভূতি ছিল যে এর স্কলারশিপ একটা ক্যান্ডিডেট এর কোয়ালিফিকেশন গুলি সম্পর্কে যদি ২/৩ টা বছর আগেও আমার ধারনা থাকতো তবে মাস্টার্সে কমনওয়েলথ স্কলারশিপে আমি হয়তো বা বেশ পোক্ত একজন ক্যান্ডিডেট হতেই পারতাম! তার পরেও, আল্লাহর অশেষ রহমতে স্কলারশিপ আমি পেয়েছি তবে তার জন্য আমাকে অন্যভাবে পরিকল্পনা করতে হয়েছে যা আরেকদিন বলবো। 

স্কলারশিপে পড়াশোনাকে আমি মূলত দুই ভাবে বিভক্ত করি। রেগুলার পড়াশোনা এবং রিসার্চ লেভেলে পড়াশোনা। বর্তমানে এই তুমুল প্রতিযোগিতার যুগে রেগুলার পড়াশোনা তে স্কলারশিপ পাওয়া মোটামুটি অলিক স্বপ্নের মত। তার মানে এই না যে স্কলারশিপের সংখ্যা কম এবং রিসার্চ লেভেল এর পড়াশোনার মান খারাপ। বর্তমানে রিসার্চ লেভেলে পড়াশোনাতে প্রচুর পরিমান স্কলারশিপ এর সংখ্যাই বলে দেয় গোটা বিশ্বে রিসার্চের গুরুত্ব কতখানি এবং প্রতিটা দেশের শিক্ষাখাত কি পরিমান রিসার্চ ওরিয়েন্টেড হয়ে যাচ্ছে। আর কেনই বা হবে না? এই সীমিত সম্পদ আর তথ্য প্রযুক্তির যুগে গবেষনা নির্ভর পড়াশোনার উপর নির্ভর করে অনেক কিছু। আপনি রিসার্চ করবেন , আপনাকে সাহায্য করবে আপনার দায়িত্বে থাকা একজন সুপারভাইজার। আপনার রিসার্চের গুরুত্বপূর্ন ফলাফলে আপনি আপনার শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখবেন, লাভবান হবেন আপনি, লাভবান হবে আপনাকে স্কলারশিপ দেয়া সেই ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ, আপনার রিলেটেড ফিল্ড, দেশ এবং সর্বোপরি ভবিষ্যৎ বিশ্ব। আর এই কারনে দিনে দিনে রেগুলার পড়াশোনার চাহিদার সাথে সাথে বেড়ে যাচ্ছে রিসার্চ লেভেলে পড়াশোনার চাহিদা এবং স্কলারশিপের সু্যোগ। 

স্কলারশিপে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য আগে সেভাবে মাইন্ডসেটাপ করতে হবে। ভাল মোটিভেশন লেটার লেখা জানতে হবে, এসওপি(স্টেটমেন্ট অফ পার্পাস) এবং মোটিভেশন লেটার এর মধ্যে পার্থক্য কি সেটা জানতে হবে, একাডেমিক এবং প্রফেশনাল রেফারেন্স লেটার কিভাবে নিতে হয় এবং সাবমিট করতে হয় এবং সর্বোপরি আইয়েলস/টোফেল জাতীয় ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি সার্টিফিকেট কে কিভাবে মজবুত করতে হয় তাও জানা খুবই জরুরী। আমি সামনের পর্বে এগুলি নিয়ে ধাপে ধাপে আলোচনা করবো।

আজকে আমরা একটা স্কলারশিপ নিয়ে আলোচনা করবো যেটা খুবই আকর্ষনীয় একটা স্কলারশিপ। লিথুনিয়ার প্রখ্যাত ভিলনিয়াস গেডিমিনাস টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি যা ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স দুই পর্যায়েই স্কলারশিপ দিচ্ছে বিদেশী ছাত্রদের। আরো আকর্ষনীয় বিষয় হল ভার্সিটির আউটার ক্যাম্পাস ইটালির ফোরেন্সে যা মূলত এই স্কলারশিপ দিচ্ছে ছাত্রদের। QS র‍্যাংকিং এ প্রথম ১৫০ ইউনিভার্সিটির মধ্যে থাকা এই ইউনিভার্সিটি মূলত টেকনিক্যাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টের জন্য ভাল হলেও এখানে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট , ফাইন্যানশিয়াল ম্যানেজমেন্ট এর মত বিষয়েও অনার্স এবং মাস্টার্স করার সুবিধা আছে। আর সাথে তো আছেই পড়াশোনা শেষে ইটালি তে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ এবং চাকরীর সুযোগ। আর ইঞ্জিনিয়ারিং এখানে আছে সিভিল এবং বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন সিস্টেম, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং সহ বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্সের সুযোগ। মাস্টার্স লেভেলে জয়েন্ট এবং ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ দুই ই আছে, এখানে আছে এয়ারক্র্যাফট পাইলোটিং এবং এয়ারট্রাফিক কন্ট্রোলিং এর মত দুর্দান্ত কিছু বিষয়ে মাস্টার্সের সু্যোগ। বলে রাখা ভাল জয়েন্ট মাস্টার্স প্রোগ্রাম এর অর্থ হল মাস্টার্সের দুই বছরের প্রোগ্রামের ২য় বছরে আপনাকে আরেকটি বিদেশি ইউনিভার্সিটিতে পড়তে হবে যা জয়েন্ট প্রোগ্রামের প্রধান শর্ত। বিশ্বব্যাপি জয়েন্ট প্রোগ্রামের চাকরির পর দারুন চাহিদা এবং জয়েন্ট প্রোগ্রাম শেষে একজন শিক্ষার্থীর বেকার থাকার ঘটনা খুবই বিরল। এই স্কলারশিপে আবেদন করার শেষ সুযোগ ১৮ই জুন। অর্থাৎ খুব বেশি সময় নেই হাতে, এবং এই স্কলারশিপে আবেদনের পূর্বে কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন একজন আবেদনকারীর। সেগুলি হল ১. পূর্ববর্তী সকল পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ন বিষয় গুলোতে (যেমন ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ) শতকরা ৮০% কিংবা অধিক নম্বর প্রাপ্তরা এই স্কলারশিপে অধিক গ্রহনযোগ্যতা পাবেন। ২. দুইটা রেফারেন্স লেটার লাগবে মিনিমাম, একাডেমিক হতে হবে। ৩. খুব ভাল আইয়েলস/টোফেল স্কোর আপনার স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনাকে অনেক বাড়িয়ে দেবে। ৪. খুব ভাল এবং তথ্যবহুল মোটিভেশনাল লেটার ৫.  আপনি আবেদন পত্রে কি এক্ট্রা কারিকুলার একটিভিটি বেছে নিচ্ছেন তার উপর। 

একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন ইটালিতে এপ্লিকেশন পদ্ধতি কিন্তু দুই ধাপে। অর্থাৎ, অফার লেটার পেয়ে গেলেই ভিসা পেয়ে যাবেন এমন কিন্তু নয়। প্রথমত, আপনাকে অফার লেটার পাওয়ার পর ডিওভি স্টেজের জন্য দাড়াতে হবে। ডিওভি হল ‘ইটালি পড়তে যাওয়ার জন্য অনুমতিপত্র’ যার জন্য আপনাকে ইটালি ভিএফ এসে আবেদন করতে হবে। এই ডিওভি পেয়ে গেলে বাকি সব কাগজ হাতে নিয়ে এবং এই ডিওভির কাগজ হাতে রেখে আপনাকে ভিসার আবেদন করতে হবে ইটালি এম্বেসিতে। 

আগামী পর্বে বিস্তারিত ভাবে লিখবো কিভাবে ইটালি তে ভর্তির জন্য আবেদন এবং ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। ইটালি পড়াশোনার জন্য বিশাল একটি ক্ষেত্র এবং ৪০০ এর উপরে দারুন দারুন ইউনিভার্সিটি আছে যেখানে ল্যাজিওডিসু , ইর‍্যাসমাস মুন্ডাস ,রিজনাল স্কলারশিপ ছাড়াও শত শত স্কলারশিপ আছে। উপরের স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট তো আছেই এছাড়া আমার সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০১৮

সর্বমোট পড়েছেন: 599 জন

মন্তব্য: 0 টি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ