মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট জালিয়াতির সবচেয়ে বড় চক্র আটক

প্রবাসীর দিগন্ত | প্রবাসীরদিগন্ত ডেস্ক : মার্চ ৭, ২০১৮

শাহরিয়ার তারেক : মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট জালিয়াতির লিডার ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশি এবং আরও ১৮ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে আটক করেছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ। ইমিগ্রেশনের দাবি এটি মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় পাসপোর্ট জালিয়াতির সিন্ডিকেট। খবর দ্যা সান ডেইলি।

সোমবার ৫ ই মার্চ ক্লাং নামক একটি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টর মহা-পরিচালক দাতুক সেরি মুস্তোফার আলী বলেন,

‘সোমবার রাতে ক্লাং উপত্যকায় ১৮ জন বাংলাদেশিকে পাসপোর্ট জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে, তাদর মধ্যে একজন মহিলাও আছে। তাদের সাথে ২ জন পাকিস্তানি, ৪ জন ইন্দোনেশিয়ান মহিলা, একজন ফিলিপাইন মহিলা এবং একজন স্থানীয় নাগরিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি গাড়ি, হাজার খানেক জাল পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন রাবার স্ট্যাম্প, বিদেশি ভিসা স্টিকার, চারটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার এবং চারটি থাম্ব ড্রাইব উদ্ধার করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাতুক সেরি মুস্তোফার আলী সাংবাদিকদের জানান, চক্রটি বাংলাদেশের জাল পাসপোর্ট তৈরির পাশাপাশি মালয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের পাসপোর্ট ও ভিসা জাল করে আসছে এ চক্রটি।

কুয়ালালামপুরের শ্রী পেটেলিংয়ে ভাড়া বাসাতে তার পরিবার নিয়ে বসবাস করতো ৫০ বছর বয়সী মাস্টারমাইন্ডে এই বাংলাদেশি। তিনি যে বাসায় থাকতেন তার পাশের বাসাতে থাকতো পরিবার। সেখানেও পাসপোর্ট তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়। পরে তার পরিবারের সদস্যদেও আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

বাংলাদেশি এই ব্যাক্তি তার জালিয়াতি লুকানোর জন্য সে নামে মাত্র আরও বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেছে বলে জানান মুস্তফার। সে ২০০৫ সালে ভ্রমণ ভিসায় পরিবার নিয়ে মালয়েশিয়ায় বেড়াতে এসে, জালিয়াতির মাধ্যমে এখানেই থেকে যায়।

মুস্তফার আলী বলেন,

‘পাসপোর্ট তৈরির আগে সে মালয়েশিয়ায় সাধারণ বীমা, টেক্সটাইল, রেস্তোরাঁ, চুক্তিমূলক কাজ এবং তার অপরাধ ঢাকার জন্য সামাজিক কাজকর্ম চালু করে।’

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে, সিন্ডিকেটটি নকল বাংলাদেশি শিক্ষা সার্টিফিকেট তৈরি করে বিভিন্ন কাজে যোগদানের জন্য বাংলাদেশিদের সহযোগিতা করে বলে জানান মুস্তফার আলী।

মুস্তফার আলী আরও বলেন,

‘এই সিন্ডিকেট বাংলাদেশি বা অন্যদেশের নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে এসে জাল ভিসা তৈরি করে কানাডা, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, কোরিয়া, জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশে তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা করে।’

গত দুই মাস কড়া নজরদারির পর সোমবার এ অভিযান চালানো হয় এবং আমরা সফল হয়েছি। গত দুই বছর তারা খুব সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং লাখ লাখ রিঙ্গিত তারা আয় করেছে বলেও জানান তিনি।

আমরা এখনও তদন্ত অব্যহত রেখেছি এই জন্য যে, এঘটনার সাথে আর কারা কারা জড়িত আছে এবং অন্য যেসব ব্যবস্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলো কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে? আমরা পর্যায়ক্রমে সব খুঁজে বের করবো। 

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: মার্চ ৭, ২০১৮

প্রতিবেদক: প্রবাসীর দিগন্ত

সর্বমোট পড়েছেন: 2935 জন

মন্তব্য: 0 টি