মাহাথির জানান, তার রক্তে প্রবাহমান এক বাংলাদেশিরই রক্ত।

আমির হোসেন | নিজস্ব প্রতিবেদক : মে ১০, ২০১৮

২০১৪ সালে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বাংলাদেশে আসেন মাহাথির মোহাম্মদ। সেই বক্তৃতায় তিনি নিজের শেকড় সম্পর্কে চমকপ্রদ একটি তথ্য প্রকাশ করেন। মাহাথির জানান, তার রক্তে প্রবাহমান এক বাংলাদেশিরই রক্ত। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কোন একটি গ্রামে আমার দাদার বাড়ি ছিলো এবং দাদা পরবর্তীতে মালয়েশিয়াতে বসতি স্থাপন করেন। এরপর খোজঁ নিয়ে জানা যায় যে, চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাংশে রাঙ্গুনিয়া উপজেলাধীন চন্দ্রঘোনা ও কাপ্তাইগামী সড়কের পূর্বে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ গ্রাম মরিয়মগনগর। আর এই মরিয়মনগর গ্রামের এক যুবক উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ব্রিটিশ শাসিত মালয়েশিয়ায় জীবিকার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান।

তিনি ছিলেন জাহাজের নাবিক। মালেয়েশিয়ার এ্যালোর সেটর গিয়ে এক মালয় নারীর প্রেমে পড়েন এবং তারা বিবাহ করেন। আর তাদের ঘরেই জন্ম নেন মুহাম্মদ ইস্কান্দার। আর ইস্কান্দারের দশ সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হলেন মাহাথির। ১৯২৫ সালের ১০ জুলাই ব্রিটিশ অধ্যুষিত মালয়ের কেদাহ অঞ্চলের সেতার নামক স্থানে এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুহাম্মদ বিন ইস্কান্দার ছিলেন মালয়ের একটি ইংলিশ স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক। তার জীবনে তার পিতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল বলে তিনি একাধিকবার বলেছেন।

মাহাথির মোহাম্মদের উত্থান ২১ বছর বয়সে রাজনীতি শুরু করেন মাহাথির মোহাম্মদ। তখন তিনি তার সাবেক দল ইউএমএসওতে যোগ দেন। যদিও পরবর্তী সাত বছর একজন চিকিৎসক হিসাবে তিনি প্রাকটিস অব্যাহত রাখেন। ১৯৬৪ সালে তিনি কেদাহ প্রদেশ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৬৯ সালে তিনি সেই আসনটি হারান আর দল থেকেও বহিষ্কৃত হন, কারণ তখনকার প্রধানমন্ত্রী টাঙ্কু আবদুল রহমানের সমালোচনা করে তিনি একটি প্রকাশ্য চিঠি লিখেছিলেন। এরপর তিনি 'মালয় ডিলেমা' নামের একটি বিতর্কিত বই লেখেন। সেখানে তিনি মন্তব্য করেন, দেশটির মালয় জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এটি দলের তরুণদের তার পক্ষে টেনে নিয়ে আসে এবং তাকে পুনরায় দলে ফেরত নেয়া হয়। ১৯৭৪ সালে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন এবং শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরের চারবছরের মধ্যে তিনি ইউএমএমও দলের উপ নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে তিনি প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার শাসনামলে মালয়েশিয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। যদিও তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কিছু অভিযোগ আছে, কিন্তু অর্থনৈতিক সাফল্য তাকে মালয়েশিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে।

গণতন্ত্রের কালো অধ্যায় বহু বিতর্কিত ইন্টারনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় অনেক বিরোধী রাজনীতিবিদকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৯৯৮ সালে তার উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে বরখাস্তের পর দুর্নীতি আর সমকামিতার অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়। পশ্চিমা দেশগুলো নিয়ে তার সমালোচনা বহির্বিশ্বেও তাকে আলোচিত করে তোলে। প্রধানমন্ত্রী থেকে ২০০৩ সালের অক্টোবরে অবসরের সময় তিনি বলেন, ''আমি অসন্তুষ্ট...কারণ সফল হওয়ার জন্য আমি যেসব অর্জন করতে চেয়েছিলাম, তার সামান্যই অর্জন করতে পেরেছি।'' তবে অবসরের পরেও তিনি রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাননি।

২০০৮ সালের নির্বাচনের দলের খারাপ ফলাফল জন্য তিনি তার উত্তরসূরি আবদুল্লাহ বাদাইর প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। আবদুল্লাহর পদত্যাগের পর নাজিব রাজাক ক্ষমতায় আসেন। প্রথমদিকে নাজিব রাজাককে সমর্থন করলেও, দেশটির একটি বিনিয়োগ তহবিলে নাজিব রাজাকের দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ার পর তা পাল্টে যায়। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ও পার্টির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের সমর্থন দাবি করেন মাহাথির মোহাম্মদ।

কিন্তু সেখানে সাড়া না পাওয়ার পর ২০১৬ সালে তিনি এবং আরো কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেন এবং বিরোধী পক্ষে যোগ দেন। এ বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেন।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: মে ১০, ২০১৮

সর্বমোট পড়েছেন: 3940 জন

মন্তব্য: 0 টি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ