মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা ঠেকাতে হিমশিম শ্রীলংকা

প্রবাসীর দিগন্ত | ডেস্ক রিপোর্ট : মার্চ ৯, ২০১৮

শ্রীলংকার ক্যান্ডি শহরে বৌদ্ধ-মুসলিম দাঙ্গা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনের বেলা ছয় ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হলেও রাতের বেলা তা কঠোর করা হয়। সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর হামলা ও সহিংসতা ঠেকাতে আরও বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে ওই এলাকায়। আতঙ্কে রয়েছে মুসলিমরা। তবে সেনাবাহিনী বলেছে, পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়ে এসেছে। বুধবার রাতে আর কোনো সহিংস ঘটনা না ঘটায় দিনের বেলায় শহরটিতে কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। খবর এএফপির। 

শ্রীলংকার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে ক্যান্ডির পরিস্থিতি শান্ত ছিল। মেজর জেনারেল রুকমান ডিয়াস বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। গত ১২ ঘণ্টায় কোনো বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, এরপর বৃহস্পতিবার সকালে ছয় ঘণ্টার জন্য কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়। তবে সন্ধ্যায় ক্যান্ডিতে ফের কারফিউ বহাল হয়।

এর আগে জরুরি অবস্থার মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে মুসলিমদের বাড়িঘরে হামলা চালায় বৌদ্ধরা। এ সময় পুলিশ ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়। বুধবার ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনা। 

এদিকে এই সহিংসতা বন্ধ ও শ্রীলংকার অস্থির পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন দেশের তিন সাবেক ক্রিকেটার। সনৎ জয়াসুরিয়া, মাহেলা জয়বর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা দেশের এই ভয়ংক পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। 

জয়বর্ধনে টুইটারে বলেছেন, এই সাম্প্রদায়িক হিংসার জোরালো প্রতিবাদ করছি। জাতিগত বিদ্বেষ মোটেও ভাল নয় সমাজের জন্য।

সনাৎ জয়সুরিয়া বলেছেন, খুব বিরক্ত লাগছে। এই ধরণের সাম্প্রদায়িক হিংসা দেশের পক্ষে রোগ। এর জোরালো প্রতিবাদ করছি। দোষীদের কড়া শাস্তি চাই। শ্রীলংকার মানুষজন যথেষ্ঠ বিচক্ষণ। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সবাই একসঙ্গে থাকুন।

দেশটির সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, শ্রীলংকায় জাতিগত বা ধর্মীয় অবস্থানের কারণে কোনো মানুষ হামলা বা হুমকির শিকার হতে পারে না। সেখানে বর্ণবিদ্বেষ বা সহিংসতার কোনো স্থান নেই। সবাইকে জোরালোভাবে একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হবে। 

মধ্যাঞ্চলীয় ক্যান্ডি শহরে সপ্তাহ খানেক আগে এক বিরোধের জের ধরে মুসলিম ও বৌদ্ধদের দুটি পক্ষ মারামারি করে। সে সময় আহত এক বৌদ্ধ তরুণ পরে মারা যায়। এ নিয়ে স্থানীয় মসজিদে হামলা চালানো হয়। কিছু এলাকায় সংখ্যাগুরু বৌদ্ধরা মুসলিমদের মালিকানাধীন দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পুড়িয়ে ফেলা একটি বাড়ি থেকে এক মুসলমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। মুসলিম তরুণের মরদেহ উদ্ধারের পর সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুসলিমরাও প্রতিশোধ নিতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে- এই আশঙ্কায় সোমবার রাতে ১০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি দেওয়া ঠেকাতে ফেসবুক-টুইটার সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। 

সম্প্রতি শ্রীলংকার বৌদ্ধদের জোর করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছিল কয়েকটি কট্টরপন্থি বৌদ্ধ গোষ্ঠী। পাশাপাশি বৌদ্ধ মন্দির মুসলমানদের হাতে অবমাননার শিকার হচ্ছে বলে দায়ী করে আসছিল তারা।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: মার্চ ৯, ২০১৮

প্রতিবেদক: প্রবাসীর দিগন্ত

সর্বমোট পড়েছেন: 459 জন

মন্তব্য: 0 টি