লেবাননে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মার্চ ১৮, ২০১৮

মো জুয়েল রানা: লেবানন বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস-২০১৮ উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে দূতাবাস হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দূতাবাসের প্রথম সচিব সায়েম আহমেদ এর সন্ঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদূল মোতালেব সরকার। আলোচনায় সভার শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়া বঙ্গ বন্ধুর প্রতিকৃতিত্বে পুস্পস্তবক অর্পন,বাণীপাঠ,বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন,আলোচনা সভা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়।

প্রথমেই রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অপর্ন করেন,পরে আওয়ামীলীগ এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ও পুর্নবাসন সোসাইটির লেবানন যুব কমান্ডের নেতাকর্মীরা পুস্পস্তবক অর্পন করেন।তারপর রাষ্টপতি , প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও আদর্শ নিয়ে বক্তব্য রাখেন, রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার, বাবুল মুন্সী, রুবেল আহমেদ, তপন ভৌমিক, লোকমান হোসেন ও রুহুল আমিন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন,পান্জাবি জাতি যখন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন ও শোসনের স্বীকার হচ্ছিল তখন বঙ্গবন্ধু এগিয়ে গিয়েছিলেন সেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন ও শোসন থেকে রক্ষা করতে।

আপনারা সেই ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে পশ্চিম পাকিস্তানেরা যখন উর্দুকে একমাত্র রাষ্টভাষায় ঘোষনা করে,বাঙ্গালির জাতির মুখের ভাষা কেরে নিতে চেয়েছিলো সেখানে বঙ্গ বন্ধু ভূমিকা রেখেছিলেন। ৫৪ সালে যখন আইয়ূব খান বিশেষ আইন করে এদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার কেরে নিতে চেয়েছিলেন,সেখানে ও বঙ্গ বন্ধু রূখে দাড়িয়েছিলেন। বঙ্গ বন্ধুকে রূখতে না পেরে অবশেষে ৬৮ সালে ওনার নিধায় আগরতলা সরযন্ত্র মামলা দাখিল করা হয়েছিল,সেখানেও ওনাকে রূখতে পারে নি। পরবর্তিতে ৬৯ এর গন অভূ্্যথান এর মাধ্যমে এবং ৭০ এর নির্বাচনকে তিনি প্রবাহিত করেছিলেন। সেই নির্বাচনে আপনারা দেখেছিলেন যে ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭ আসন পেয়েছিল তৎকালীন আওয়ামীলীগ। এটি একমাত্র সম্ভব হয়েছিল বঙ্গ বন্ধুর যে অপূর্ব নেতৃত্ব ও অপরাসীম সাহস ও তার বাকবিচার শুধু তাই নয়, বঙ্গ বন্ধুর যে নেতৃত্ব সেটি ছিলো প্রশ্নহীন নেতৃত্ব।

আজকে আমরা যদি জাতির নেতৃত্বের দিকে যদি তাকায়, এরকম একটি নেতা খোজে পাওয়া খুব মুশকিল।বঙ্গবন্ধু এক মহানুভব ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ এই দুটি শব্দকে আলাদা করার কোন সুযোগ নেই। কারণ বঙ্গবন্ধু ছিলেন নির্যাতিত, নিপীড়িত সাধারণ গণমানুষের নেতা। তিঁনি কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি এমনকি যেখানেই অন্যায়, অবিচার দেখেছেন সেখানেই রুখে দাঁড়িয়েছেন। রাষ্ট্রদূতের বক্তৃতায় উঠে আসে জন্মের ৫০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে কীভাবে বাংলাদেশ দ্রুতগতিসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মতো সফলতা দেখাতে যাচ্ছে। উঠে আসে জাতির পিতা কীভাবে পুরো জাতিকে স্বাধীনতার জন্য একতাবদ্ধ করেছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে কীভাবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হতে যাচ্ছে- সে সব উন্নয়ন পরিক্রমা।

একে একে তুলে ধরা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, কৃষি, দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোশাক শিল্প, ওষুধ শিল্প, রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক। তুলে ধরা হয় পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্প।

তিঁনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা আমাদের মাঝে বেঁচে রয়েছেন। তাই আসুন বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে দলমত, জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার হাতকে শক্তিশালী করি। পাশাপাশি ভিষন ২০২১ এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রুপান্তরিত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা বাস্তবায়নে আমরা সকলেই তাঁকে সহযোগীতা করি।

লেবাননে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে তিঁনি বলেন, মাদক, জুয়া, ইয়াবা, অনৈতিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন অপকর্মের সাথে যারা জড়িত রয়েছেন। সবাই এই পথ থেকে সরে আসুন। ইতিমধ্যেই লেবাননের প্রশাসন ইয়াবা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এজন্য বাংলাদেশীদেরকেই দায়ী করছে। পাশাপাশি কিছু দিনের মধ্যেই লেবাননের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোটা লেবাননে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করার কথা রয়েছে। কোনপ্রকার অবৈধ সামগ্রীসহ যদি কোন বাংলাদেশীকে আটক করা হয় দূতাবাসের করার কিছুই থাকবে না।

অতএব আপনারা সতর্ক থাকুন এবং এগুলো বর্জন করুন।উক্ত আলোচনা সভায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা/কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, গণমাধ্যমকর্মীসহ লেবাননের সকল স্তরের প্রবাসী বাংলাদেশীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: মার্চ ১৮, ২০১৮

প্রতিবেদক:

সর্বমোট পড়েছেন: 193 জন

মন্তব্য: 0 টি

বিজ্ঞাপন জন্য স্থান
(আপনার বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন)