লেবানন বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে গনহত্যা দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : মার্চ ২৭, ২০১৮

মো. জুয়েল রানা: বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযথ মর্যাদায় ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ পালন করেছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে ঘুমন্ত, নিরস্ত্র ও নিরপরাধ বাঙ্গালির উপর মানব ইতিহাসের জঘন্যতম ও নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ চালায় তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তাই ২৫ মার্চ কে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসাবে পালন করা হয়।
গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বিকালে দূতাবাসের হলরুমে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুসহ মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত বানী পাঠ করা হয়। এরপর শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান।

‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত বাণীটি পাঠ করে শোনান দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল হোসেন এবং রাষ্ট্রপতির প্রদত্ত বাণীটি পাঠ করে শোনান দূতালয় প্রধান কাউন্সেলর সায়েম আহমেদ।দূতাবাসের প্রথম সচিব দূতালয় প্রধান কাউন্সেলর সায়েম আহমেদ এর সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, মিলন সরকার, মশিউর রহমান টিটু, করিম হোসেন, আলমগীর হোসেন, আমির হোসেন, রুবেল আহমেদ, আবুল বাশার প্রধান এবং সমাপনি বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার।
এ সময় রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বিশ্ব ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায়। বাঙ্গালী জাতিকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করার অভিপ্রায়ে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনী সেদিন যে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছিলো তা বাংলার মুক্তিকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারে নাই। বীর বাঙ্গালি ৩০ লাখ মানুষের জীবন বিসর্জন ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বিজয় ছিনিয়ে আনে। আর তাই আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।
রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ‘গণহত্যা দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, ইতিহাসের জঘন্যতম এই হত্যাযজ্ঞের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করা। আর এই স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন পরিপূর্ণতা পাবে।

প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, লেবাননে ১লক্ষ ৬০ হাজার বাংলাদেশীদেরকে সুরক্ষা দেওয়াই হল আমার প্রধান লক্ষ এবং উদ্দেশ্য। দেশকে এগিয়ে নিতে এবং দেশের উন্নতি সমৃদ্ধকরণে আপনাদের তুলনা নেই। আপনারা আপনাদের রেমিটেন্সগুলো বৈধ পথে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রেরণ করুন, এতে দেশের উন্নয়ন হবে।
তিনি বলেন, লেবাননে বাংলাদেশীরা দেশ থেকে ইয়াবা এনে এদেশে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন করছে। ইতিমধ্যেই লেবাননের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযান চালিয়ে ১৫/২০ হাজার পিছ ইয়াবা উদ্ধার করেছি। আরো এক লক্ষ পিছ ইয়াবা এদেশে আছে বলেও তিনি ধারণা করছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে বাকি ইয়াবাগুলোকে জব্দ করে এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আগামী এক মাসের মধ্যে লেবানন থেকে ইয়াবা সমূলে নির্মূল করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, লেবাননে যারা বাংলাদেশী দালাল রয়েছেন তাদেরকে আমি সতর্কবার্তা দিচ্ছি যে, ভিসা প্রতি ৩ হাজার ডলার থেকে একটি টাকাও বেশি নিলে আমরা ওপেন অ্যাকশনে যাব। এজন্য তিনি তাদেরকে সময়ও বেঁধে দিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, দালালদের সাথে আমার কোন ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। সাধারণ মানুষদের চিন্তা মাথায় রেখেই এমন কঠোর সিদ্ধান্তের কথা তিনি জানিয়েছেন।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর গণহত্যার উপর নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের বাংলা চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’ প্রদর্শিত হয়। লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার, দূতাবাসের কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ, আওয়ামীলীগ ও অংঙ্গ সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ প্রবাসী বাংলাদেশি নেতৃবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত সকলেই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যার বীভৎসতা ও বর্বরতা দেখেন।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: মার্চ ২৭, ২০১৮

প্রতিবেদক:

সর্বমোট পড়েছেন: 118 জন

মন্তব্য: 0 টি

বিজ্ঞাপন জন্য স্থান
(আপনার বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন)