সোনালী, ফারমার্স, রূপালী ব্যাংক লুট হলো, জনগণ কী বিচার পাইলো

শেখ সেকেন্দার আলী | নিজস্ব প্রতিবেদক : জুন ১১, ২০১৮

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ‘বিশৃঙ্খলা’ নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রবিবার ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অর্থমন্ত্রীর সমালোচনায় মুখর হন সংসদ সদস্যরা।ক্ষমতাসীন দলের এমপি আলী আশরাফ ঋণখেলাপিদের আইনের আওতায় আনার দাবি করে বলেন, ব্যাংকিং খাতকে সুষ্ঠু শৃঙ্খলার মধ্যে আনা প্রয়োজন। না হলে আর্থিক খাত ভেঙে পড়বে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে পদক্ষেপ নিতে হবে। ঋণখেলাপিদের, অর্থ পাচারকারীদের ধরেন। তিনি বলেন, ব্যাংকের লুটপাট থেকে বেরিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন না। লুটপাটকারীদের ধরেন, মানুষের কনফিডেন্স ফিরে আসবে। সুশাসন নিশ্চিত হবে। দৃঢ়হাতে এগুলো করতে হবে। আপনাদের তো সদিচ্ছার অভাব নেই।অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মানুষের কল্যাণ করতে হবে। বিশাল বিশাল অবকাঠামো করবেন, কিন্তু খেতে তো দিতে হবে। বাইরের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে।স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, নিরাপত্তার জন্য মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখে। কিন্তু মানুষ ভীত হয়ে গেছে। ঋণের নামে টাকা পাচার করে। লাখ লাখ হাজার কোটি টাকা বিদেশে গেছে। ঋণখেলাপি কারা অনেকেই জানেন।প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক, বীমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট ট্যাক্স আড়াই শতাংশ কমানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটা হলে ব্যাংক বলতে আর কিছু রাখবে না। এক পরিবার থেকে চারজন পরিচালক রেখেছেন। আবার তাদের ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়া হলো। যে টাকা খেলাপি সেই টাকা আদায়ের জন্য কী করা যেতে পারে? ভবিষ্যৎ সরকার না, কমিশন আপনিই (অর্থমন্ত্রী) করেন। ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সরকারকে টাকা দেয়। আর আমরা ব্যাংককে ক্যাপিটাল দেই। তারা পারছে আমরা কেন পারবো না?সরকারি দলের আলী আশরাফ সম্পূরক বাজেটের আলোচনায় বলেন, ব্যাংকিং খাতকে সুষ্ঠু শৃঙ্খলার মধ্যে আনা প্রয়োজন। না হলে আর্থিক খাত ভেঙে পড়বে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে পদক্ষেপ নিতে হবে। খেলাপি একটু ধরেন। অর্থ পাচারকারীদের ধরেন।
কুমিল্লার সংসদ সদস্য সাবেক এই ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ব্যাংকের লুটপাট থেকে বেরিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবে না। লুটপাটকারীদের ধরেন, মানুষের কনফিডেন্স ফিরে আসবে। সুশাসন নিশ্চিত হবে। দৃঢ় হাতে এগুলো করতে হবে। আপনাদের তো সদিচ্ছার অভাব নেই।
জাতীয় পার্টির সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহর দরবারে বিচার হবে। কাদের টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। তুঘলকি আমল নাকি? মাহমুদ গজনীর সোমনাথ মন্দির লুটের পর আর এত বড় লুট হয়নি, যা হয়েছে আমাদের ব্যাংকে।অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ডাকাতদের কেন সুযোগ দিলেন? তাদের কেন প্রটেকশন দিলেন?... ব্যাংকওয়ালার কি ভোট দেবে? সাধারণ মানুষের দিকে তাকালেন না। সোনালী, ফারমার্স, রূপালী ব্যাংক লুট হলো, জনগণ কী বিচার পাইলো। কিছুই পাইলো না। ব্যাংক দিলেন, জনগণ লগ্নী করে। আর সেই টাকা লুট হবে। মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছেন। ভোট বাড়াচ্ছেন না। তেলা মাথায় তেল দিচ্ছেন। ... ৯৮ হাজার কোটি টাকা কে নিয়েছে?  ফারমার্স ব্যাংক কেন নিলামে তোলেন না? ২৪ হাজার টাকার জন্য কৃষককে ধরা হয়।জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, ২-৩ বছর ধরে আমরা বারবার ব্যাংক লুট নিয়ে কথা বলে যাচ্ছি। লুটকারীরা টাকা নিয়ে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী মানুষের করের টাকা দিয়ে মুলধন সরবরাহ করে যাচ্ছেন। সেখান থেকে আবার কিছু মানুষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। অর্থমন্ত্রী ব্যাংক সংস্কারে কমিশন করার কথা বলেছিলেন। বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বললেন, করবেন না। সংস্কার কমিশন গঠিত হলে কারা লুটপাট করেছে কীভাবে করেছে সব বেরিয়ে আসতো। নিশ্চয় অর্থমন্ত্রী এটা প্রকাশ করতে চান না।
সম্পূরক বাজেটের নিয়ে আওয়ামী লীগের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন, সোহরাব উদ্দিন ও জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমরও আলোচনা করেন। 

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: জুন ১১, ২০১৮

প্রতিবেদক: শেখ সেকেন্দার আলী

সর্বমোট পড়েছেন: 277 জন

মন্তব্য: 0 টি