স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় অপরিণত বয়সে প্রেম, অতঃপর করুন পরিনীতি

সাইদুল ইসলাম (সুমন) | নিজস্ব প্রতিবেদক : মে ৫, ২০১৮

প্রযুক্তি বিশ্ব মানুষকে সৌখিন এবং বিলাসী হতে শিখিয়েছে। অবস্থা এমন যে হাতে একটি মোবাইল থাকলেই বিশ্বের যে কোন খবর মুহূর্তের মধ্যেই চোখের সামনে ভেসে উঠবে।বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ ও এগিয়ে চলেছে ,তথ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এখন হাতের নাগালেই চাইলে যে কোন তথ্য মিনিটে পাওয়া যায় । অনেক জানা অজানা তথ্য জানা সম্ভব হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে । আর এর প্রতি বেশী আশক্ত তরুণ তরুণী কিশোর কিশোরীরা।

পড়া লেখা থেকে শুরু করে পরিহ্মার ফলাফল,ভর্তি সব কিছু হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আর এই ইন্টারনেট ব্যাবহারের জন্য যেটি প্রয়োজন তা হল একটি স্মার্টফোন।স্মার্ট ফোন ব্যবহার হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে। বিশ্বের নানা ঘটনা নানা ইতিহাস এখন তার হাতের মুঠোয়।

নিজের জীবন গড়ে নিতে স্মার্ট ফোনের বিকল্প হিসেবে আর কিছু ভাবতে পারছে না তরুণ তরুণীরা। গোটা দেশ মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসায় শহর থেকে গ্রামে গেলেও স্মার্ট ফোনে সব যোগাযোগই রক্ষা করতে পারছে।

স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর স্মার্ট ফোনকে শিক্ষার কাজে লাগাছে। দীর্ঘদিন ধরেই তরুণ প্রজন্মের সবার কাছেই মোবাইল ফোন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোবাইল ফোন ছাড়া তাদের এক মুহূর্তও এখন আর কাটতে চায় না। কথা বলার পাশাপাশি মোবাইল ফোনে বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহার। এ কারণে দেশে স্মার্ট ফোনের চাহিদা ও ব্যবহার বাড়ছে দ্রুত গতিতে।

মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তার মতে, দেশে এখন প্রায় এক কোটি গ্রাহকের হাতে রয়েছে স্মার্ট ফোন। গত এক বছরে বৈধ পথেই দেশে এসেছে সাড়ে ২৪ লাখ স্মার্ট ফোন। আগামী এক বছরে আসবে আরও ৫০ লাখের বেশি স্মার্ট ফোন। দিন দিন এই ফোনের চাহিদা বাড়ছে। এখন তো খুব কম টাকায় স্মার্ট ফোন পাওয়া যাচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে শত ভাগ মোবাইল ব্যবহারকারীর হাতে চলে যাবে স্মার্ট ফোন।

দামও হাতের নাগালে চলে এসেছে। এখন ৪ থেকে সাড়ে হাজার টাকার মধ্যে স্মার্ট ফোন পাওয়া যাচ্ছে। দেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বিদেশে কর্মরত রয়েছে, তারা দেশে আসার সময় একটি স্মার্ট ফোন বা আই ফোন নিয়ে আসেন এবং পরিবারের হাতে ও তুলে দেন। তাতেও বিপুলসংখ্যক স্মার্ট ফোন ও আই ফোন দেশে আসছে।

মোবাইল ফোন দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানে নানাভাবে পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বিশেষ করে স্মার্ট ফোন গোটা বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। আজকে যা ইউরোপ আমেরিকায় ঘটছে সঙ্গে সঙ্গে তা জানতে পারছে স্মার্ট ফোন গ্রাহকরা। সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের জনজীবনে সর্বাধিক প্রভাব ফেলেছে স্মার্ট ফোন।

মোবাইল ফোন প্রযুক্তির পণ্যটি এই মুহূর্তে বিশাল জনগোষ্ঠীর হাতে হাতে রযেছে। টেলিযোগাযোগ নয়, হাতে ধরে রাখা যন্ত্রটি একই সঙ্গে হয়ে উঠে বিনোদন ছবি তোলার যন্ত্র হিসেবে। শোনা যায় রেডিও খবর ইত্যাদি । একই সঙ্গে অনেক সেবা পাওয়া যাচ্ছে মোবাইল ফোনে। গান শোনা বা ছবি তোলা নয় জানতে পারছেন প্রতিমুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ফেসবুকে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের প্রতিমুহূর্তের খবর পেয়ে যাচ্ছেন। স্মার্ট ফোন প্রযুক্তির মূল সুবিধা হচ্ছে সহজে ইন্টারনেট এ্যাকসেস পাওয়া।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে গেছে ইন্টারনেট প্রযুক্তি। দূর গ্রামাঞ্চল থেকেও বিশ্বকে পেয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে। দ্রুত ডেটা আদান প্রদান করতে স্মার্ট ফোনের কোন বিকল্প নেই। দেশের তরুণদের ভেতর স্মার্ট ফোনের জনপ্রিয় তা ছেড়ে এখন বয়স্কদের এই প্রযুক্তির আগ্রহ চলে গেছে। যেটা উন্নত দেশে রয়েছে। টেলিকম গবেষকরা মনে করেন। তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেন, মোবাইল ফোন জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার ফল এখন মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়।

বিদ্যুত পানির বিল মোবাইলের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাচ্ছে। স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফরম কিনতে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। মোবাইল ফোনেই সব কাজ শেষ করা যাচ্ছে। চালু হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। একই সঙ্গে স্মার্ট ফোন তরুণ প্রজম্মকে বিশ্বকে হাতের মুঠোয় তুলে দিয়েছে। স্মার্ট ফোন আর ইন্টারনেটের কল্যাণে তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। আবার একটি অংশ উচ্ছন্নেও চলে যাচ্ছে। প্রযুক্তির যেমন ভাল দিক রযেছে তেমনি খারাপ দিকও রয়েছে। এখন এটা নির্ভর করে ব্যবহারের ওপরে।

তরুণ তরুণীরা বেশীভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যাবহার করে থাকে।ফেসবুক হয়ে উঠেছে এক জনপ্রিয় মাধ্যম ।দেখা যাচ্ছে পাঠ্য বই বাদ দিয়ে দিনের পর দিন পড়ে আছে এই ফেসবুক নিয়ে।সকালে গুম থেকে উঠে প্রথমেই ফেসবুক ওপেন করতে হয় বেশী ভাগ তরুণ তরুণীকে ,রাতে ঘুমাতে হয় অনেক রাত করে। এই ফেসবুকের ফলে চেনা অচেনা নানান মানুষের সাথে বন্ধুত্বের বন্ধন সৃষ্টি হচ্ছে একে অপরের ভাবের আদান প্রদান ও হচ্ছে ফেসবুকে ম্যসেঞ্জারের মাধ্যমে।এবং তা এক সময় প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে হাজার ও তরুণ তরুণী কিশোর কিশোরি।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের সৈকত থেকে কিশোরী তাসফিয়ার ঘটনা জলন্ত প্রমান এ ছাড়া ও বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত হাজার ও ঘটনা ঘটছে ,কিছু অসাধু মানুষ প্রেমের নামে তরুণীদের ফাঁদে ফেলে তাদের স্মমানেরহানী কোড়টেছে,আবাড় ডেখা যাচ্ছে একজোণ একেড় অধিক সম্পর্ক সৃষ্টি করতেছে। অল্প দিনে সম্পর্ক হচ্ছে আবার কিছু দিন না যেতেই ব্রেকআপ বলে দিচ্ছে। এর ফলে এক সময় নিজেদের মাঝে ক্রোধ সৃষ্টি হচ্ছে এবং অপরাধ পা দিচ্ছে।

দিন দিন বাংলাদেশে এই স্কল অপরাধ বেড়ে চলেছে। শিকার হচ্ছে কিশোর কিশোরী এমন অবস্থায় দেশের পাশাপাশি প্রবাসী অভিভাবকগন ও উদ্বিগ্ন। আদরের সন্তানের হাতে নিজেরাই একটি ফোন তুলে দিছি কিন্তু সে তা এখন কিসে ব্যাবহার করতেছে তা নিজের জানা নাই। দূরে থাকার ফলে সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারতেছে না। প্রতিনিয়ত ভাবতে হয় কোন অপরাধে পা বাড়িয়ে দিছে কিনা। সম্প্রতি কিশোরী তাসফিয়ার ঘটনা সহ খুন, ধর্ষণ ,প্রতারনা, বিবাহ বিচ্ছেদ, পরকিয়া সহ নানান অপরাধ প্রযুক্তি অপব্যবহারের ফলে হচ্ছে ধরনা করা হচ্ছে।

সময়ের সাথে যদি এই সকল অপরাদের সঠিক শাস্তি প্রদান করা না হয় তবে কিশোর অপরাধ সহ নানা অপরাধ দিন দিন বেড়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে ১৬ বছরের আগে সন্তানের হাতে মোবাইলন উচিত না,তাছাড়া প্রতিনিয়ত সন্তানের সব কিছু নজরে রাখা উচিত,তার সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত প্রতিতি মা বাবকে।

সন্তান কোথায় যায় কার সাথে মেলামেশা করে মাদক কিংবা কোন অপরাধে পা বাড়চ্ছে কিনা সব কিছু দেখা উচিত এখনি সচেতন না হলে বড় ধরনের অপরাধে পা বাড়াবে সন্তানরা আর এটি ছেলে কিংবা মেয়ে উভয়ের হ্মেত্রেই। অভিভাবকের সচেতনতা আইনের সঠিক ব্যবহার ফলে এই সকল অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: মে ৫, ২০১৮

সর্বমোট পড়েছেন: 250 জন

মন্তব্য: 0 টি